সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মসুর ডাল আমদানি কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পণ্যটির আমদানি কমেছে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ। ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, দেশের বাজারে চাহিদা নিম্নমুখী হওয়ায় আমদানি কমেছে। জানা যায়, জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ৬২২ টন। যার মূল্য ছিল ১০ কোটি ১১ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় ১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা মূল্যের মোট ১ হাজার ১১৫ টন ডাল আমদানি হয়েছিল। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছর পণ্যটির আমদানি কমেছে ৪৯৩ টন।
ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম কৃষিজাত পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার জানান, চাহিদা কম থাকায় তার প্রতিষ্ঠানে মসুর ডালের আমদানি কমানো হয়েছে।
এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দর দিয়ে আমদানি কমলেও সাতক্ষীরায় মসুর ডালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। দুই-আড়াই মাসের মধ্যে একই দামে পণ্যটি বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
গতকাল সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বাজারের মেসার্স সরদার স্টোরে খুচরায় নেপাল থেকে আমদানীকৃত মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে কেজিতে ১৩০ টাকায়। এ সময় ভারতীয় মসুর ডালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৯৬-১০০ টাকা। এছাড়া দেশী ডাল বর্তমানে ১১০-১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই-আড়াই মাস আগেও একই দামে বেচাকেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আব্দুল হাকিম সরদার।
তিনি বলেন, ‘বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বর্তমানে কম। ফলে ডালের চাহিদা কমে এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।’
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ডালসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক আছে। এর পরও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়।’